Class 8 3rd Unit Test Bangla Question Paper 2022 Set 2 | অষ্টম শ্রেণীর ফাইনাল পরীক্ষার বাংলার প্রশ্নপত্র সেট – ২

Class 8 Bangla 3rd Unit Test Question Set 2 2022

 

অষ্টম শ্রেণী

তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন – 2022

বাংলা

পূর্ণমান : ৭০

 সময়: ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট

। বহুবিকল্প প্রশ্নের ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো। ১x১১=১১

১.১ লেখকের মতে আমাদের জেলের কষ্ট-

(ক) মানসিক অপেক্ষা দৈহিক

(খ) দৈহিক অপেক্ষা মানসিক

(গ) দৈহিক ও মানসিক দুটোই

(ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তরঃ (খ) দৈহিক অপেক্ষা মানসিক

১.২ “শহরে ১৪৪ ধারা আর কারফিউ জারি হয়েছে।”—কারণ—

(ক) হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা

(খ) হিন্দুদের উৎসব

(গ) মুসলমানদের উৎসব

(ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তরঃ (ক) হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা

১.৩ সুভা গল্পে দুটি গাভি আছে, একটির নাম পাঙ্গুলি অপরটির নাম—

(ক) ধালি

(খ) শ্যামলী

(গ) সর্বশী

(ঘ) সর্বাঙ্গী

উত্তরঃ (গ) সর্বশী

১.৪ আমার কোনো স্বাধীনতার প্রয়োজন হবে না-

(ক) আজ

(খ) আগামীকাল

(গ) মৃত্যুর পর

(ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তরঃ (গ) মৃত্যুর পর

১.৫ ‘ঘুরে দাঁড়াও’-এর অর্থ—

(ক) পিছনে ফেরো

(খ) এগিয়ে যাও

(গ) সামনে দাঁড়াও

(ঘ) প্রতিবাদ করো

উত্তরঃ (ঘ) প্রতিবাদ করো

১.৬ লোকটার দু-আঙুলের ফাঁক দিয়ে কী খসে পড়ল?—

(ক) জীবন

(খ) মুখ

(গ) পয়সা

(ঘ) আশা

উত্তরঃ (ক) জীবন

১.৭ ‘সমাস’ কথার অর্থ—

(ক) সংক্ষেপ

(খ) মিলন

(গ) সন্নিহিত

(ঘ) রীতি

উত্তরঃ (ক) সংক্ষেপ

১.৮ যেসব পদের সমাস হয়, তাদের প্রত্যেকটিকে বলা হয়—

(ক) সমস্তপদ

(খ) সমস্যমান পদ

(গ) নামপদ

(ঘ) উত্তরপদ

উত্তরঃ (খ) সমস্যমান পদ

১.৯ ‘আমি তো এসে গেছি।’ -এই বাক্যের ক্রিয়ারকালটি হল—

(ক) অতীতকাল

(খ) পুরাঘটিত অতীত

(গ) পুরাঘটিত বর্তমান

(ঘ) ঘটমান বর্তমান

উত্তরঃ (গ) পুরাঘটিত বর্তমান

১.১০ ‘আপনাদিগের’-এর চলিত ভাষায় রূপটি হল—

(ক) আপনার

(খ) আপনি

(গ) আমাদের

(ঘ) আপনাদের

উত্তরঃ (ঘ) আপনাদের

১.১১ ‘মন দিয়ে পড়বে।’—এই বাক্যের ক্রিয়াপদটির কাল

(ক) পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ

(খ) সাধারণ ভবিষ্যৎ

(গ) ভবিষ্যৎকালের অনুজ্ঞা

(ঘ) ঘটমান ভবিষ্যৎ

উত্তরঃ (গ) ভবিষ্যৎকালের অনুজ্ঞা

 

। নীচের প্রশ্নগুলির অতিসংক্ষিপ্ত উত্তর দাও x১৩=১৩

২.১ শান্তিনিকেতন দেশকে প্রথম কী শিখিয়েছে?

উত্তরঃ শান্তিনিকেতন দেশকে প্রথম শিখিয়েছে বিদ্যালয় কেবলমাত্র বিদ্যাদানের স্থান নয়, বিদ্যাচর্চার স্থান।

২.২ “ঘোষদা একটা বড়ো খবর আছে।”—কী সেই ‘বড়ো খবর’?

উত্তরঃ ‘বড়ো খবর’-টি হলো রঞ্জন তাদের ক্লাবে আসতে চাইছে।

২.৩ ‘টিকিটের অ্যালবাম’ গল্পের লেখক কে?

উত্তরঃ ‘টিকিটের অ্যালবাম’ গল্পের লেখক হলো- সুন্দর রামস্বামী।

২.৪ “শিকল-পরা ছল” বলতে কবি প্রকৃতপক্ষে কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তরঃ “শিকল-পরা ছল” বলতে কবি প্রকৃতপক্ষে বোঝাতে চেয়েছেন ভারতীয় স্বাধীনতাকামীদের স্বাধীনতা অর্জনের উদ্দেশ্যে কারাবরণ করে ভারতীয়দের মন থেকে শিকল পড়ার ভীতিকে দূর করাকে বুঝিয়েছেন।

২.৫ ‘ঘুরে দাঁড়াও’ কবিতায় কবি কাকে ঘুরে দাঁড়াতে বলেছেন?

উত্তরঃ ‘ঘুরে দাঁড়াও’ কবিতায় কবি ঘুরে দাঁড়াতে বলেছেন দেশের চিরবঞ্চিত অত্যাচারিত সাধারণ মানুষদের।

২.৬ “সাত ঝামেলা জোটায়” -এখানে ‘সাত’ শব্দটির ব্যবহারের কারণ কী?

উত্তরঃ ‘সাত’ বলতে এখানে ‘নানা রকম’ বা ‘বহু’ এই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

২.৭ ‘বনান্তর’ সমাসবদ্ধ পদটি ব্যাসবাক্যে বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ বনান্তর – অন্য বন। (নিত্য সমাস)

২.৮ ‘আমি রঞ্জন সরকার বলছি।’—বাক্যটির ক্রিয়ারকাল নির্ণয় করো।

উত্তরঃ এটি একটি ঘটমান বর্তমান কাল।

২.৯ পুরাঘটিত বর্তমান ও ঘটমান বর্তমানের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উত্তরঃ যে ক্রিয়ার কাজ শেষ হয়ে গেলেও তার ফল বর্তমানে রয়েছে তাকে বলে পুরাঘটিত বর্তমান কাল। অন্যদিকে যে ক্রিয়ার কাজ বর্তমানে চলছে বা ঘটছে বোঝায় তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে।

২.১০ বাংলা ভাষায় লিখিত ক-টি রূপ দেখতে পাওয়া যায় ও কী কী?

উত্তরঃ বাংলা ভাষায় লিখিত দুটি রূপ দেখতে পাওয়া যায়। সাধু ভাষা ও চলিত ভাষা।

২.১১ সন্ধি ও সমাসের একটি পার্থক্য লেখো।

উত্তরঃ সন্ধিতে ধ্বনিগত মিলন হয়। অন্যদিকে সমাসে পদগত মিলন লক্ষ্য করা যায়।

২.১২ যাত্রাদলের কার সঙ্গে অপুর ভাব হয়েছিল?

উত্তরঃ যাত্রাদলের  অজয় নামের একটি ছেলের সঙ্গে অপুর ভাব হয়েছিল।

২.১৩ দুর্গা কী রোগে মারা গিয়েছিল?

উত্তরঃ দুর্গা ম্যালেরিয়া রোগে মারা গিয়েছিল।

। কমবেশি ৩০টি শব্দে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও। ২x২ =৪

৩.১ “হঠাৎ ডাস্টবিনটা একটু নড়ে উঠল।”—ডাস্টবিন নড়ে ওঠার অব্যবহিত পরে কী দেখা গেল?

উত্তরঃ ডাস্টবিনটা নড়ে ওঠার অব্যবহিত পরে দেখা গেল ডাস্টবিনের দুইপাশে দুটি মানুষ। প্রাণভয়ে ভীত, অসহায় তাদের দুচোখে সন্দেহের দোলা। একজন হিন্দু অন্যজন মুসলমান। তাদের চোখে ভয় ও সন্দেহ মিলেমিশে রয়েছে।

৩.২ “এইজন্য প্রতাপ সুভার মর্যাদা বুঝিত।”—প্রতাপের কাছে সুভা কীভাবে মর্যাদা পেত, তা গল্প অবলম্বনে লেখো।

উত্তরঃ প্রতাপ হলো চণ্ডীপুর গ্রামের গোঁসাইদের ছোটো ছেলেটির নাম। ছিপ ফেলে মাছ ধরা তার প্রধান শখ ছিল। কারণ এই কাজে অনেকটা সময় অতিবাহিত করা যায়। যেকোনো কাজে একটা সঙ্গী পেলে প্রতাপ ভালো থাকে। আর মাছ ধরার সময় বাক্যহীন সঙ্গীই সর্বশ্রেষ্ঠ। এই জন্যই প্রতাপ সুভার মর্যাদা বুঝত।

। কমবেশি ৩০টি শব্দে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও। ২x২=৪

৪.১ ‘বাঁধন-ভয়কে করব মোরা জয়’—কারা, কীভাবে এই ‘বাঁধন-ভয়কে জয় করবে?

উত্তরঃ কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর অনুগামী দেশভক্তরা নির্দ্বিধায় কারাবরণের মাধ্যমে ইংরেজ শক্তিকে বিকল করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। শিকল পরা তাঁদের একটা ছলনামাত্র। এই শিকল পরেই তাঁরা ইংরেজ প্রদত্ত শিকলকে বিনাশ করবেন। স্বেচ্ছা কারাবরণের মাধ্যমে সাধারণ মুক্তিপিয়াসি মানুষের মন থেকে কারাবরণের ভীতিকে দূর করবেন।

৪.২ “সরতে সরতে সরতে / তুমি আর কোথায় সরবে ?” — কবি কোথা থেকে এই ‘সরণ ’ লক্ষ করেছেন ? এক্ষেত্রে তাঁর দেওয়া পরামর্শটি কী ?

উত্তরঃ এই চলমান পৃথিবীর মাঝে দাঁড়িয়ে কবি প্রণবেন্দু দাসগুপ্ত জীবন থেকে উপলব্ধি করে এই ‘সরণ’ লক্ষ করেছেন ।

এক্ষেত্রে তাঁর দেওয়া পরামর্শটি হলো, ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতিকে নিজের দখলে নিয়ে আসতে হবে। সেই উদ্দেশ্যে কবি এই কবিতায় ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

। কমবেশি ৬০টি শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। ৩x১=৩

৫.১ যাত্রা দেখা নিয়ে অপু কীরকম উৎসাহিত ছিল?

৫.২ অপু কড়ি খেলতে কোথায় গিয়েছিল? তার সঙ্গীসাথি কারা ছিল লেখো।

উত্তরঃ ৫.২ অপু কড়ি খেলতে গিয়েছিল জেলেপাড়ায়। তার সঙ্গীসাথি ছিল ব্রাষ্মণ পাড়ার ছেলে পটু, জেলেপাড়ার তিনকড়ির ছেলে বঙ্কা, হৃদয় এবং জেলেপাড়ার আরও অন্যান্য ছেলেরা।

 

। সাত-আটটি বাক্যে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও x২=১০

৬.১ নেতাজি ভবিষ্যতের কোন্ কর্তব্যের কথা চিঠিতে বলেছেন ? কেন এই কর্তব্য স্থির করেছেন ? কারা-শাসন প্রণালী বিষয়ে কাদের পরিবর্তে কাদের প্রণালীকে তিনি অনুসরণযোগ্য বলে মনে করেছেন ?

উত্তরঃ মান্দালয় জেল থেকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু তাঁর প্রিয়বন্ধু দিলীপ রায়কে লেখা চিঠিতে

 ভারতবর্ষে প্রচলিত কারা-শাসনপ্রণালীর আগাগোড়া পরিবর্তন করার কথা বলেছেন।

নেতাজির মতে জেলখানার সমস্ত আবহাওয়াটা মানুষকে বিকৃত এবং অমানুষ করে তোলারই উপযোগী। এই কথাটা সকল জেলের পক্ষেই প্রযোজ্য। কারাবাসে অধিকাংশ অপরাধীদের কোনো নৈতিক উন্নতি হয় না। তারা আরোও হীন হয়ে পড়ে। তাই নেতাজি ভবিষ্যতে কারাবাসের সংস্কার করার কর্তব্য স্থির করেছেন ।

কারা-শাসন প্রণালী বিষয়ে তিনি ব্রিটিশ প্রণালীর পরিবর্তে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলির ব্যবস্থাই অনুসরণ যোগ্য বলে মনে করেছেন।

৬.২ সুভার সঙ্গে মনুষ্যেতর প্রাণীর বন্ধুত্ব কেমন ছিল, তা লেখো।

উত্তরঃ মানুষের সঙ্গে সুভার সম্পর্ক খুব একটা না থাকলেও মনুষ্যতর প্রাণীর সঙ্গে তার সম্পর্ক তথা বন্ধুত্ব ছিল বেশ ভালোই। সর্বশী ও পাঙ্গুলি নামে দুটি গাভী আর একটি বিড়াল শাবক এবং একটি ছাগল সুভার অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিল। সুভার দুঃখে তারা যেমন দুঃখিত হতো তেমনি সুভার আদর, মিনতি সবই বুঝতে পারত। যখন সুভা দুহাত দিয়ে সর্বশীর গলা জড়িয়ে তার কানের কাছে নিজের গাল ঘষত, তখন পাঙ্গুলি তার গা চেটে দিত। বাড়িতে কেউ কোনো কঠিন কথা বললে সুভা এই মুক বন্ধু দুটির কাছে চলে আসত, আর তারাও যেন সুভার মনোবেদনা বুঝতে পারত। শিং ঘষে তাকে সান্ত্বনা দিত। গাভী ছাড়াও ছাগল এবং বিড়ালছানাও ছিল সুভার পরম বন্ধু । বিড়াল শিশুটি সুভার কোলে ঘুমানোর জন্য এলে সে তার ঘাড়ে ও পিঠে আঙুল বুলিয়ে ঘুমের সাহায্য করত।

। সাত-আটটি বাক্যে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও x২=১০

৭.১ ‘মাসিপিসি’ কবিতায় এই মাসিপিসি কারা? তাঁদের জীবনের কোন ছবি এই কবিতায় তুমি খুঁজে পাও?

উত্তরঃ  কবি জয় গোস্বামীর লেখা ‘মাসিপিসি’ কবিতায় মাসিপিসি হলো সমাজের দরিদ্রতম একশ্রেণির শ্রমজীবী মহিলা যারা ভোরের বেলায় চালের পোটলা-পুটলি নিয়ে বনগাঁ লোকাল ধরে জীবিকার সন্ধানে ছুটে যায়।

তাদের জীবনের এক কর্মময় বাস্তব ছবি ফুটে উঠেছে এই কবিতায়। সমাজের দরিদ্রতম এইসব মহিলা কঠিন জীবন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে তাদের পরিবারের সবাইকে বাঁচিয়ে রাখে। রোজগারের আশায় অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে ভোরের আলো ফোটার আগেই লালগোলা ট্রেন ধরার জন্য বেরিয়ে পড়ে। মাস, দিন এমনকি শতবর্ষের হিসাব তারা রাখে না। তারা জানে শুধু কর্মের দ্বারা রুজি রোজগার। তাদের জীবনের নিরালস পরিশ্রমের এক কর্মব্যস্ততার ছবি খুঁজে পাওয়া যায়‌।

৭.২ ‘ছোট্ট একটা তুক করে বাইরেটা পাল্টে দাও’ — ‘বাইরে’টায় কী ধরনের বদল ঘটবে বলে কবি আশা করেন? সেই কাঙ্ক্ষিত বদল ঘটলে জীবন কীভাবে অন্যরকম হবে বলে কবি মনে করেন?

উত্তরঃ ‘ঘুরে দাঁড়াও’ কবিতাটিতে কবি প্রণবেন্দু দাসগুপ্ত  অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে মানুষকে ঘুরে দাঁড়ায়ে বাইরের পৃথিবীটাকে বদলে দেওয়ার কথা বলেছেন। তাহলে দেখা যাবে সাইকেল – রিকশোগুলো শিস দিয়ে চলে যাবে বনে – বনান্তরে। কাদা ভরতি রাস্তা উঠে পড়বে ছায়া পথের কাছাকাছি। গাছগুলো নদীর জলে স্নান করে আসবে। এবং সা – রা – রা – রা করে জেগে উঠবে শহরতলি।

এই কাঙ্ক্ষিত বদল ঘটলে অবশ্যই জীবন অন্যরকম হবে। একঘেয়েমি থেকে মুক্ত হওয়া মানুষ এক বৈচিত্রের সন্ধান পাবে। নইতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মরতে হবে এবং বিন্দুর মতো মিলিয়ে যেতে হবে।

। আট-দশটি বাক্যে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। ৫×১=৫

৮.১ মহাভারতের সমস্ত চরিত্রের মধ্যে অপুর কর্ণের চরিত্র বড়ো ভালো লাগে কেন?

৮.২ অপু তার দিদির সঙ্গে কেন কখনও আড়ি করবে না?

উত্তরঃ ৮.২ অপু তার দিদিকে খুব ভালোবাসে। কিন্তু যখন তার দিদি তার নাকে কলমির ফুল দিয়ে নোলক বানিয়ে দেয় তখন তার ভালো লাগেনা। তবুও দিদিকে সে কিছু বলতে পারে না। অপুর দিদি মাঝেমধ্যে আম, জাম, তেঁতুল, কামরাঙ্গা লোভনীয় খাদ্যগুলি মাকে লুকিয়ে নিয়ে আসে আর দুজনে মিলে খায়। তাই সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দিদির সঙ্গে কখনও আড়ি করবে না। তাদের খেলাঘরের দোকান থেকে যেদিন মাকাল ফল চুরি করে পালায় সেদিন তার দিদি সমস্ত বনবাদাড় ঘুরে সন্ধ্যার সময় একরাশ মাকাল ফল এনে দিয়েছিল। তার ডাগর চোখের স্নিগ্ধ মমতামাখা হাসি দেখে সেদিন অপু বুঝেছিল দিদি তাকে বড্ড ভালোবাসে। তাই অপু সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দিদির সাথে কখনও আড়ি করবে না।

। পত্ররচনা করো। ৪

ছুটি মঞ্জুরের আবেদন জানিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে একটি পত্র রচনা করো।

উত্তরঃ

মাননীয় প্রধান শিক্ষক মহাশয়,

স্কুলের নাম-

ঠিকানা-

তারিখঃ 12/11/2022

বিষয়ঃ  ছুটি মঞ্জুরের জন্য আবেদন পত্র

মহাশয় / মহাশয়া,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্র। আমি গত 02/11/2022 থেকে 05/11/2022 পর্যন্ত অসুস্থ থাকার কারণে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে পারিনি।

অতএব, মহাশয়ের নিকট আমার বিনীত আবেদন, উপরোক্ত বিষয়টি বিবেচনা করে উক্ত 4 দিনের ছুটি মঞ্জুর করলে আমি আপনার প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ থাকব।

                                                                                                            বিনীত-
                                                                                           আপনার একান্ত অনুগত ছাত্র- 

                                                                                           নাম-

                                                                                           শ্রেণি- ৭ম

                                                                                          রোল-

      তারিখ-

 

১০। যে-কোনো একটি বিষয়ে নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ রচনা করো। ৬×১=৬  

১০.১ পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

১০.২ একজন শ্রেষ্ঠ বাঙালি বিজ্ঞানী

১০.৩ ছাত্র জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

উত্তরঃ পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকারঃ ভূমিকাঃ আকাশ, বাতাস, জল, উদ্ভিদজগত, প্রাণীজগত সবকিছু নিয়ে আমাদের পরিবেশ আর এগুলির কোনোটিকে বাদ দিয়ে আমরা বাঁচতে পারি না। মানুষ তার বিদ্যা-বুদ্ধি দিয়ে এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে তার চারপাশের পরিবেশকে আরও সুন্দর করে সাজিয়ে তুলছে। কিন্তু সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এবং স্বার্থান্বেষী কিছু মানুষের লোভে প্রাকৃতিক পরিবেশ আজ বিভিন্ন ভাবে দূষিত হচ্ছে। যেমন- জল, বায়ু, শব্দ, মাটি প্রভৃতি দুষণের ফলে মানুষের জীবনেও এসেছে নানা ধরনের দুরারোগ্য ব্যাধি।

জলদুষণঃ জলের আর এক নাম জীবন কারণ জল ছাড়া কোনো জীব বাঁচেতে পারে না। কিন্তু সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে কলকারখানার সংখ্যা বেড়ে চলেছে। সেই কলকারখানা থেকে নির্গত রাসায়নিক পদার্থমিশ্রিত জল নদীর জলে মিশে নদীর জলকে দূষিত করে তুলছে। এছাড়া শহরের নর্দমার জলও নদীতে পড়ে নদীর জলকে দূষিত করছে। ফলে জলবাহিত রোগের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে।

বায়ুদুষণঃ বিভিন্ন কলকারখানা, যানবাহন, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ইত্যাদি থেকে যে দূষিত গ্যাস, ধোঁয়া, ধূলিকণা ইত্যাদি বাতাসে মেশে তার ফলে বায়ু দূষিত হচ্ছে। দুষণের ফলে মানুষকে ক্যান্সার, শ্বাসকষ্ট  ইত্যাদি দুরারোগ্য ব্যাধির শিকার হতে হচ্ছে।

মাটিদূষণঃ বর্তমানে কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে গিয়ে জমিতে নানা প্রকারের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে মাটি দূষিত হচ্ছে। রাসায়নিক সার দ্বারা প্রস্তুত কৃষিজাত  দ্রব্য থেকে মানুষের নানা ধরণের রোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

শব্দদুষণঃ কলকারখানার উচ্চশব্দ, গাড়ির হর্ন, মাইক্রোফোনের আওয়াজ, বাজি-পটকার শব্দে মানুষের শ্রবণ-শক্তি ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। রক্তচাপ বৃদ্ধি, স্নায়বিক অস্থিরতা, মানসিক বিপর্যয় ইত্যাদি নানা রকমের সমস্যা সৃষ্টি করছে ।

পরিবেশ দুষণের প্রতিকারঃ সব রকম দূষণ থেকে পৃথিবীতে মুক্ত করতে পারে একমাত্র সবুজ উদ্ভিদ। তাই বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে এবং সংরক্ষণ করতে হবে। কলকারখানার বা নর্দমার নোংরা জল যাতে নদীর জলে না মেশে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে । শব্দদূষণ কমানোর জন্য শব্দ-নিরোধক যন্ত্রের ব্যবহারের উপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। মৃত্তিকা দূষণ রোধ করার জন্য রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব স্যার বেশি পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে এবং কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে হবে। যানবাহনে  জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর পরিবর্তে ব্যাটারি চালিত গাড়ির ব্যবহার করতে পারলে দূষণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

উপসংহারঃ পরিবেশ দূষণের ফলে আজ মানব সভ্যতার অস্তিত্ব বিপন্ন। এই গভীর সংকটের মোকাবিলা করার জন্য আমাদের প্রত্যেকেই সচেতন হতে হবে। যাতে পরিবেশের দুষণের মাত্রা না বাড়ে সেদিকে নজর দিতে হবে।  এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সমস্ত মানব জাতিকে এক-জোট হতে হবে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *